দেশ 

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন অবরুদ্ধ ছিল দিল্লি!? নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ব্যাখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব

শেয়ার করুন

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও সিজেপির বিক্ষোভ রুখতে কেন্দ্র দিল্লিকে পুরো অবরুদ্ধ করে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগও উঠেছিল। এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতের নোটিস যেতেই ব্যাখ্যা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। শীর্ষ আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন তিনি।

আদালতে স্বরাষ্ট্রসচিবের দাবি, গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা ইচ্ছাকৃত ভাবে লঙ্ঘন করা হয়নি। বরং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং অশান্তি এড়াতেই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। অমিত শাহের মন্ত্রকের সচিব শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছেন, ১০ অক্টোবর প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। ২০ জুলাই নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই পুলিশ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রসচিব এ-ও জানান যে, ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর (শনিবার) রাত ১০টা পর্যন্ত কেবল রাইসিনা হিলের চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ওই সময় সেলুলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হলেও ওয়াইফাই এবং ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু রাখা হয়েছিল।

গত ১০ অক্টোবর এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ওই অভিযানের আগে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে মেট্রো এবং ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ না-করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, শহরের এক প্রান্ত থেকে মানুষজন অন্য প্রান্তে যাতায়াত করেন। তাঁদের কথাও ভাবতে হবে। যাত্রীদের প্রাথমিক পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেই সুবিধা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যায় না। শনিবার মেট্রো, ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই কর্মসূচির আগেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীরা যাতে জমায়েতে যোগ দিতে না-পারেন, তার জন্য দিল্লিমুখী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়। বন্ধ করা হয় দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়। তাতে কেন্দ্রকে জবাব দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সলিসিটর জেনারেল জানান, হলফনামা তৈরিই রয়েছে। তবে সেটি আর একটু গুছিয়ে নিতে চান তিনি। সুপ্রিম কোর্ট সেইমতো তাঁকে অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করে। এ বার সেই হলফনামা দিয়ে বিধিনিষেধের কারণ ব্যাখ্যা করলেন স্বরাষ্ট্রসচিব।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ